অরুণ প্রকৃতিবাদী
ভাষ্যকার
প্রকৃতিবাদ ও প্রকৃতিতন্ত্র
- See more at: http://naturalistbd.blogspot.com/#sthash.YvObyBdo.dpuf
অরুণ প্রকৃতিবাদী
ভাষ্যকার
প্রকৃতিবাদ ও প্রকৃতিতন্ত্র
- See more at: http://naturalistbd.blogspot.com/#sthash.YvObyBdo.dpuf
অরুণ প্রকৃতিবাদী
ভাষ্যকার
প্রকৃতিবাদ ও প্রকৃতিতন্ত্র
- See more at: http://naturalistbd.blogspot.com/#sthash.YvObyBdo.dpuf
অরুণ প্রকৃতিবাদী
ভাষ্যকার
প্রকৃতিবাদ ও প্রকৃতিতন্ত্র
- See more at: http://naturalistbd.blogspot.com/#sthash.d8EmxNkI.dpuf
অরুণ প্রকৃতিবাদী
ভাষ্যকার
প্রকৃতিবাদ ও প্রকৃতিতন্ত্র
- See more at: http://naturalistbd.blogspot.com/#sthash.d8EmxNkI.dpu
অরুণ প্রকৃতিবাদী
ভাষ্যকার
প্রকৃতিবাদ ও প্রকৃতিতন্ত্র
- See more at: http://naturalistbd.blogspot.com/#sthash.d8EmxNkI.dpuf
‘লবণ’ প্রসঙ্গে মনুসংহিতাঃ
“অক্ষারলবণন্নাঃ স্যু র্নিমজ্জেয়ুশ্চ তে ত্র্যহম্।
মাংসাশনঞ্চ নাশ্নীয়ঃ
শয়ীরংশ্চ পৃথক্ ক্ষিতৌ ॥৭৩॥
অনুবাদঃ মরণাশৌচে সপিণ্ডগণ
কৃত্রিম লবণবিহীন অন্ন ভোজন করবে, তিন দিন নদী-সরোবর প্রভৃতিতে ডুব দিয়ে স্নান করবে (কিন্তু সেই সময় গা-ঘষা প্রভৃতি
বর্জনীয়), এই রকম অশৌচমধ্যে (মাছ ও) মাংস ভোজন করবে না, এবং ব্রহ্মচর্য অবলম্বনপূর্বক ভূমির ওপর আলাদা আলাদা শয্যায়
শয়ন করবে ॥৭৩॥
সদ্যঃ পততি মাংসেন
লাক্ষয়া লবণেন চ
ত্র্যহেণ শূদ্রীভবতি
ব্রাহ্মণঃ ক্ষীরবিক্রয়াৎ ॥৯২॥
অনুবাদঃ মাংস, গালা ও লবণ বিক্রয়
করলে ব্রাহ্মণ সদ্য সদ্য পতিত হয় এবং পর পর তিন দিন ক্ষীর অর্থাৎ দুধ বিক্রয় করলে ব্রাহ্মণ
শূদ্রত্ব প্রাপ্ত হয়॥৯২॥
রসা রসৈর্নিমাতব্যা
ন ত্বেবং লবণং রসৈঃ।
কৃতান্নঞ্চাকৃতান্নেন
তিলা ধান্যেন তৎসমাঃ॥৯৪॥
অনুবাদঃ এক রকম রসদ্রব্যের
বিনিময়ে অন্য প্রকার রসদ্রব্য দেওয়া বা নেওয়া যেতে পারে [যেমন মিষ্টরসযুক্ত গুড় জাতীয়
জিনিসের বিনিময়ে অম্লরসযুক্ত আমলকি প্রভৃতি নেওয়া যেতে পারে], কিন্তু লবণের বিনিময়ে রসদ্রব্য গ্রহণ করা চলবে না; এইরকম সিদ্ধান্নের
পরিবর্তে অসিদ্ধান্ন গ্রহণ করা যেতে পারে এবং ধানের বিনিময়ে তার সমপরিমাণ তিল গ্রহণ
করা চলে॥৯৪॥
সর্বান্ রসানপোহেত
কৃতান্নঞ্চ তিলৈঃ সহ।
অশ্মনো লবণঞ্চৈব পশবো
যে চ মানুষাঃ॥৮৬॥
অনুবাদঃ গুড় প্রভৃতি
সকলপ্রকার রসদ্রব্য, পাক করা অন্ন, তিল, প্রস্তর জাতীয় দ্রব্য, লবণ এবং পশু ও মানুষ- এগুলি বিক্রয় করা ব্রাহ্মণের পরিত্যাগ করতে হবে [লবণ যদিও মধুর অম্ল প্রভৃতি ছয়
প্রকার রসদ্রব্যের মধ্যে পড়ে তবুও পৃথকভাবে লবণ বিক্রয় নিষেধ করার অভিপ্রায় এই যে, লবণ বিক্রয় সকল সময়ে
সকল অবস্থায় নিষিদ্ধ॥৮৬॥”৩০
অত্রি সংহিতায় ‘লবণ’
“লাক্ষালবণসম্মিশ্র কুসুন্তক্ষীর সর্পিষাম্।
বিক্রেতা মধুমাংসানাং
স বিপ্র শূদ্রউচ্যতে॥
অত্রি সংহিতা ৩৭০ শ্লোক।
যে লাক্ষা, লবণ, কুসুন্ত (স্বর্ণ), দুগ্ধ, ঘৃত, মধু বা মাংস বিক্রয়
করে সেই ব্রাহ্মণ শূদ্র বলে নির্দিষ্ট।”৩১
দত্তাত্রেয় সংহিতা ও হঠযোগপ্রদীপিকায় ‘লবণ’
“কট্বম্ল তিক্তলবণোষ্ণহরীত শাকাঃ সৌবীর
তৈলসর্ষপ মৎস্য মদ্যাঃ।
অজাদি মাংস দধি তক্র
কুলত্থকোলাঃ
পিণ্যাক হিঙ্গুলসুনাদি
ন পথ্যমস্মিন্॥
যোগাভ্যাসকালে কটু
(ঝাল), অম্ল, তিক্ত, লবণ, শজনাশাক, কাঞ্জিক, তৈল, সর্ষপ (সরিষা), মৎস্য, মদ্য, ছাগাদি মাংস, দধি, তক্র (ঘোল), কুলত্থ, কুল, পিন্যাকহিঙ্গু অর্থাৎ তী² হিং, লসুন (রসুন) ও পেঁয়াজাদি যোগীদের পক্ষে পথ্য নহে।”৩২
বৌদ্ধশাস্ত্রে ‘লবণ’
“ভগবান সম্যক্ সম্বুদ্ধ যাগুকে মহা উপকারজনক আহার এবং ভৈষজ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যাগু পানের দশ প্রকার গুণ সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন। যাগু পানের মাধ্যমে লাভ হয় আয়ু, বর্ণ, সুখ, বল ও প্রজ্ঞা। ক্ষুধা পিপাসার নিবৃত্তি, উদর বায়ুর নিরসন, বস্তিদেশের পরিশুদ্ধি ও ভোজ্য বস্তু সম্যক জীর্ণ হয়।
যে কোন শ্রদ্ধাবান
ব্যক্তি যথাকালে সুশীল ভিক্ষুকে এই দশবিধ গুণ সম্পন্ন যাগু দান করলে দশবিধ ফল লাভ করবেন। এই ফলসমূহের অধিকারী পুণ্যবান ব্যক্তি জন্ম জন্মান্তরে মানুষিক
ও দিব্য সুখে সুখী হন।”৩৩
যাগুঃ “যাগুকে তরল ভাত বলা যায়। প্রচুর পরিমাণ পানিতে চালকে সিদ্ধ করতে করতে একেবারে তরল করে নিতে হয়। এখানে লবণতো দূরের কথা,
কোন প্রকার মসলা ব্যবহার করার নিয়ম নেই। এভাবে প্রস্তুতকৃত যাগুই বুদ্ধবর্ণিত দশ রকমের ফল দিয়ে থাকে।
বেশিরভাগ লোক অবশ্য
লবণ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মুখরোচক করে এই যাগু পান করে দশবিধ ফল প্রাপ্তির দুরাশা করে থাকে।”৩৪
‘পূর্ণানন্দ অজপা যোগ সংস্থান, জগৎপুর আশ্রম’ এর প্রতিষ্ঠাতা স্বামী পূর্ণানন্দ পরমহংস দেবের দৃষ্টিতে
লবণ
“ভদ্রলোকঃ ঠাকুর, পূর্বোক্ত খাদ্যাখাদ্যের তালিকায় লবণও বর্জনীয় দ্রব্যের মধ্যে
পরিগণিত হয়েছে। লবণ ত্যাগ করা যায়
কীরূপে? আমার ধারণা ছিল যে, শাস্ত্রেও অল্প পরিমাণে লবণ খাওয়ার ব্যবস্থা আছে।
স্বামী পূর্ণানন্দ
পরমহংসঃ বৎস, লবণ ত্যাগ করে থাকা যায় কিনা, তা আশ্রমবাসী ছেলেমেয়েদেরকে জিজ্ঞেস করে জানতে পার; তাদের কেউই লবণ খায় না। আমিও আমার গুরুর নিকট লবণকে অখাদ্যরূপে জেনে এবং ব্যবহার করে আসছি। বস্তুতই লবণ গত্যাত্মক বস্তু, তা গ্রহণ করলে শরীরে গতির যোজনা হয় এবং সাধনের বিষয়ে একাগ্রচিত্ত
হওয়ার পক্ষে বাধা জন্মে। যে সংহিতা তোমাদের কাছে পাঠ করা হল, তাতেও লবণ বর্জনীয় দ্রব্যের মধ্যে পরিগণিত- অল্প পরিমাণে লবণ খাওয়ার
ব্যবস্থা দেওয়া হয় নি।
‘কট্বম্লং লবণ তিক্তং ভ্রৃষ্টঞ্চ দধি তক্রকম্।’
এখানে অল্প পরিমাণে
লবণ খাওয়ার বিধি নেই। অল্প পরিমাণে লবণ খাওয়া সম্বন্ধে আধুনিক অতত্ত্বজ্ঞ পণ্ডিতগণ স্বীয় প্রকৃতির অনুকূল
ব্যাখ্যা প্রকাশ করে থাকেন। গীতায় রাজসিক খাদ্য বর্ণনায় আছে-
কট্বম্ললবণাত্যুষ্ণতীক্ষèরুক্ষবিদাহিনঃ।
আহারা রাজসস্যেষ্টা
দুঃখশোকাময়প্রদাঃ॥৯
এখানে উষ্ণতা সম্বন্ধে
‘অত্যুষ্ণ’ বলা হয়েছে। কিন্তু লবণ-প্রিয় পণ্ডিতগণ ‘অতি’ শব্দটা কটু, অম্ল, লবণ প্রত্যেকটি শব্দের পূর্বে বসিয়ে স্বীয় প্রকৃতির অনুরূপ অতি-কটু, অত্যম্ল, অতি-লবণ, অত্যুষ্ণ ইত্যাদি ব্যাখ্যা
করে থাকেন। এতে সরলভাবে শ্লোকটির যে অর্থ হয় তার ব্যত্যয় করা হয়েছে; তথাপি অস্বাভাবিক
মতে ‘অতি’ শব্দটা স্থানান্তর
করে এবং তৎসমর্থনার্থ নানাবিধ যুক্তির সমাবেশ করে ‘অতি লবণ’ রাখা চাই-ই। ভেবে দেখা উচিত যে, যেখানে ‘অতি’ শব্দ ব্যবহার করা হয়, সেখানে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ (standard) ঠিক করা আছে; তা অতিক্রম করলেই ‘অতি’ শব্দ প্রয়োগে তাকে বিশেষিত করা হয়। উষ্ণতার ক্ষেত্রে মানুষের জন্য তাপের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে- মানুষের শরীরের স্বাভাবিক
তাপমাত্রাই উক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ। এর চেয়ে অধিক তাপমাত্রাবিশিষ্ট হলেই অত্যুষ্ণ বলা যেতে পারে। কিন্তু কটু, অম্ল, লবণ প্রভৃতির বেলায় এরূপ কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই, যার সাথে তুলনায়
অতি-কটু, অত্যম্ল, অতি-লবণ ইত্যাদি বলা যেতে পারে। মোট কথা, উক্ত শ্লোকে ‘কট্বম্ললবণাত্যুষ্ণ’ দ্বারা কটু, অম্ল, লবণ, অত্যুষ্ণ বলা হয়েছে; অতি কটু, অত্যম্ল, অতি লবণ, অত্যুষ্ণ বলা হয় নি।
বাবা, এ সবের কোন্টা প্রকৃত
ব্যাখ্যা, কোন্টা ভুল ব্যাখ্যা তা আমি ব্যাকরণ যোগে ভাষার পাণ্ডিত্য দ্বারা নির্ণয় করার প্রয়াস
পায় নি। আমি আমার গুরুমুখে
যেরূপ শুনেছি, গুরু যেরূপ আচরণের ব্যবস্থা করেছেন, তা-ই আমি জানি। পুস্তক-যোগে অন্য জানাজানি
আমি আবশ্যক বোধ করি নি। আমার পক্ষে গুরুর নির্দেশ- যার সত্যতা আমি হাতে কলমে বুঝে এসেছি- তা-ই ঠিক। তোমাদের কোন কথায় আমার এই জ্ঞান বদলাবার নয়। এই জন্যই তোমাদের সবার মতের বিরুদ্ধে এই আশ্রমে অলবণের ব্যবস্থা। কালে যখন পশ্চিম দিক হতে এই ব্যবস্থা সমর্থিত হবে, তখন তোমরা এই বৃদ্ধের
কথার যথার্থতা বুঝতে পারবে।
মোট কথা, শরীরের পুষ্টির জন্য
যতটুকু লবণের আবশ্যকতা আছে ততটুকু লবণ তোমাদের খাদ্যদ্রব্যে আছে। অধিকন্তু পৃথকভাবে তোমাদের খাদ্যদ্রব্যের সাথে লবণ মেশানোর কোনই
প্রয়োজন নেই। প্রকৃতিতে তোমাদের
চেয়ে বৃহদাকার অধিকতর শক্তি-সম্পন্ন অনেক প্রাণী আছে; তাদের শক্তি ও দেহ
রক্ষার জন্য খাবারে পৃথকভাবে লবণ মেশানোর প্রয়োজন হয় না। তোমাদের অনেকের ধারণা- মাছ না খেলে ফস্ফরাস
হয় না আর লবণ না খেলে হাড় মোটা হয় না। আশ্রমের ছেলে-মেয়েরা মাছ, লবণ কিছুই খায় না; তা বলে মস্তিষ্ক চালনায় অথবা পরিশ্রম করার ক্ষমতায় তারা তোমাদের তুলনায় হীন নয়, বরং তারা অধিকতর কর্মঠ।”৩৫
ব্রহ্মচর্যের মূর্ত
বিগ্রহ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীঃ
শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী
তাঁর সুদীর্ঘ সাধন জীবনে কখনো লবণ খান নি। আশ্রমে এখনও তাঁর উদ্দেশ্যে যে বাল্যভোগ নিবেদন করা হয় তা তেল, লবণ এবং অন্যান্য মসলা
থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
“রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিও- আমিই রক্ষা করিব।”-
এখানে ‘স্মরণ করা’ মানে তাঁর জীবন-দর্শন তথা আদেশ-উপদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। আর এটা রীতিমত একটা জীবনপণ সাধনার বিষয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ অনেকেই লোকনাথজীর এই দিব্য প্রতিশ্রুতির জাগতিক ব্যাখ্যা করে রাতারাতি তাঁর ভক্ত হওয়ার লোভ সামলাতে
পারছে না। আসলে লোকনাথজী যা বলতে
চেয়েছেন তা আচার্য স্বামী প্রণবানন্দের ভাষায়ঃ রিপু দমন ও ইন্দ্রিয়-সংযমের মধ্য দিয়ে
যাঁরা মনুষ্যত্বের সাধনায় ব্রতী- তারা আমার প্রাণাপেক্ষা প্রিয়। দূর বা নিকট তারা যে যেখানেই থাকুক না কেন,
আমার শক্তি রক্ষা কবচের মত তাদেরকে সতত রক্ষা করবে।
গুরুদাসজীর দৃষ্টিতে ‘লবণ’
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ
‘শ্রী শ্রী সুয়াবিল
সিদ্ধাশ্রম মঠ’ -এর প্রাণপুরুষ শ্রী শ্রীমৎ স্বামী গুরুদাস পরমহংসদেব লবণ খেতেন না। শ্রী শ্রী সুয়াবিল সিদ্ধাশ্রম মঠ, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম; শ্রী শ্রী গোমদণ্ডী
যোগাশ্রম, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম; শ্রী শ্রী বারাসাত যোগাশ্রম, বারাসাত এবং শ্রী শ্রী মানসপুর যোগাশ্রম,
ব্যাণ্ডেল, হুগলীতে গুরুদাসজীর যোগ্য উত্তরসূরি যাঁরা ছিলেন এবং এখনও আছেন তাঁদের কেউ-ই লবণ
খেতেন না; খান না। তাঁর অমোঘ বাণী:
লবণ কেন খাও?
যার লবণে তাকে খাও।
শ্রী শ্রী গোমদণ্ডী
যোগাশ্রমের অন্যতম প্রাণপুরুষ শ্রীমন্মহর্ষি সুতেজানন্দ যতি মহারাজের সাধনকালীন আহারব্যবস্থা:
“প্রারব্ধের দেহ-মনকে
পরিশুদ্ধির জন্য সুতেজানন্দজীর গুরুদেব সন্যাসী মহারাজ সাত্ত্বিক আহারের ওপর বেশি জোর
দিতেন। শুদ্ধাহারে ধ্রুবাস্মৃতি লাভ হয়, এ কথা সন্যাসী মহারাজ বার বার বলতেন। আরো বলতেন, “নিত্যজপ, শুদ্ধাহার, যম আর নিয়ম/ বিনা আচরণে বৃথা সাধন ভজন ”। তাই যাতে তাঁর এ জন্মেই মোক্ষহেতুভূত ধ্রুবাস্মৃতি লাভ হয় তার জন্য আহারের ব্যবস্থা ছিল খুবই কম। সকালে একটা কি দুটা আলুপোক্রা, দুপুরে ৫০ গ্র্যাম
চালের ভাত, সেই সাথে লবণ মরিচ ছাড়া সামান্য নিরামিষ তরকারি এবং রাতে ১টা কলা। ”৩৬
‘লবণ’ বর্জনে শঙ্কর মঠের
ভূমিকা
সীতাকুণ্ড শঙ্কর মঠের
অধ্যক্ষ স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজের সুযোগ্য শিষ্য হাটহাজারীর ফতেয়াবাদস্থ
‘শ্রী শ্রী ব্রহ্মানন্দ
যোগাশ্রম’-এর অধ্যক্ষ স্বামী বীরেশ্বরানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ তাঁর গুরুদেবের স্মৃতিচারণ
করতে গিয়ে বলেন, তাঁর গুরুদেব এবং গুরুদেবের পূর্ববর্তী স্বামী স্বরূপানন্দ গিরি মহারাজ, স্বামী সত্যানন্দ গিরি
মহারাজ এবং স্বামী ব্রহ্মানন্দ পরমহংসদেব তাঁদের সাধন জীবনে লবণ পুরোপুরি বর্জন করেছিলেন। ২০০১ সালে তাঁর গুরুদেব তাঁকেও লবণ বর্জন করে রসনা সংযম করার
কঠোর নির্দেশ দেন। আর সেই থেকে এ পর্যন্ত
তিনি লবণবিহীন আহার করে আসছেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে দাবী
করেন। তাঁর মতে লবণ পুরোপুরি
ছেড়ে দিলে চঞ্চলতা দূর হয়, শীতল মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া যায়, ক্রোধকে জয় করা যায়
এবং সর্বোপরি অতি অল্প সময়ের মধ্যে আত্মদর্শনের পথে অগ্রসর হওয়া যায়।
শ্রী শ্রী সনাতন গোস্বামী
ও তাঁর পরমারাধ্য বিগ্রহ মদনমোহনজীউ-র আলাপচারিতায় ‘লবণ’:
“বিগ্রহ প্রাপ্তির পরে শ্রী শ্রী সনাতন যমুনাতীরের দুঃশাসন-টিলার ওপরে একটি পর্ণকুটিরে
বাস করতে থাকলেন। তখন বলতে গেলে সারা
বৃন্দাবনই বনময়। মানুষই নেই, ভিক্ষা দেবে কে? কাজেই তাঁর খুব সামান্য
মাধুকরী সংগ্রহ হত। দিনান্তেই যে ময়দাটুকু
পেতেন, সনাতন তা-ই আগুনে পুড়িয়ে রুটি বানিয়ে ভোগ দিতেন তাঁর মদনমোহনকে। খাবারটা কিন্তু মোটেই পছন্দ হতো না মদনমোহনের। তাই তিনি একদিন রাতে সনাতনকে স্বপ্ন দেখালেন- তুমি রোজ পোড়ারুটি
খেতে দাও আমাকে। একটু নুন পর্যন্ত দাও
না সঙ্গে। খেতে বড়ই বিস্বাদ লাগে। কাল থেকে রুটিতে অন্তত একটু নুন মিশিয়ে দিও।
সনাতন কিন্তু এতে মোটেই
লজ্জা পেলেন না। বরং রেগে গিয়ে বললেন- প্রভু, আজ তুমি নুন চাইছো, কাল কাপড় ও গয়না চাইবে, পরশু হয়তো আরও কোন
দুষ্প্রাপ্য বস্তু। কিন্তু আমি দরিদ্র
বৈষ্ণব। আমি সেসব পাব কোথায়? তবে একান্ত যদি তোমার
‘রাজ-সেবা’ পাবার ইচ্ছে হয়ে থাকে, তুমি নিজেই তার ব্যবস্থা
করে নাও না! তুমি তো সর্বশক্তিমান!”৩৭
লবণের ব্যবহার সম্পর্কে মহাত্মা গান্ধী
“সমস্ত মসলা এমনকি নুনও শাকসব্জি ও তণ্ডুলজাতীয় খাদ্যের স্বাভাবিক গন্ধ নষ্ট করে। যাদের স্বাদজ্ঞান বিকৃত হয় নি মসলা লবণ যোগ না করেই তারা খাদ্যদ্রব্যের
স্বাভাবিক স্বাদ গন্ধ উপভোগ করতে পারে। সেজন্যই বলছিলাম নিতান্ত প্রয়োজন হলে খাবার সময় লবণ যোগ করা উচিত।”৩৮
[মহাত্মা গান্ধীও লবণ বর্জনের পক্ষপাতী। “লবণ না খেলে রক্ত এরূপ
বিশুদ্ধ হয় যে, সাপে কাটলেও দেহে বিষক্রিয়া হয় না।” জনৈক গ্রন্থকারের এরূপ
মন্তব্য সম্বন্ধে তিনি বলেন, এটা কতদূর সত্য তা আমি জানি না, কিন্তু লবণ ত্যাগ করলে যে অর্শ, হাঁপানি ও রক্তদুষ্টি প্রভৃতি রোগে উত্তম ফল লাভ হয় তা আমি দেখেছি। আমি এই দু’বছর হলো লবণ ত্যাগ করে অনেকাংশে সুফল লাভ করেছি, এখন আমার বার বার জল পান করতে হয় না এবং শরীর সুস্থ ও হালকা
বোধ হয়।”]
সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও তথ্যসূত্র
১. সুখাসনে সুখাহার, ডঃ রমেন মজুমদার, শ্রীভূমি পাবলিশিং কোম্পানি, কলকাতা, চতুর্থ সংস্করণ ১৯৯৮, পৃঃ ২৩০-২৩২
২. রোগারোগ্যে অব্যর্থ প্রাকৃতিক বিধান, অধ্যাপক নীরেন্দ্র
লাল গুহ, টিচিং এ্যপ্লায়েন্স কোং, কলকাতা, ১৯৯৯, পৃঃ ৯৮-৯৯
৩. বিনা ওষুধে রোগ নিরাময়, চিন্ময় সেনগুপ্ত, মণ্ডল এণ্ড সন্স, পরিমার্জিত সংস্করণ
২০০৩, পৃঃ ৯৫
৪. স্বাভাবিক খাবারে সুস্থ শরীর, ডা. মাহবুব রহমান, একুশ প্রকাশন, ঢাকা, ২০০৫, পৃঃ ১১৬
৫. সুখাসনে সুখাহার, পৃঃ ২৩৭
৬. ঐ, পৃঃ ২৩২
৭. বিনা ওষুধে রোগ নিরাময়, পৃঃ ৯৬
৮. সুখাসনে সুখাহার, পৃঃ ২৩২
৯. রোগারোগ্যে অব্যর্থ প্রাকৃতিক বিধান, পৃঃ ৯৭
১০. সুখাসনে সুখাহার, পৃঃ ২৩২-২৩৩
১১. রোগারোগ্যে অব্যর্থ প্রাকৃতিক বিধান, পৃঃ ৯৮
১২. সুখাসনে সুখাহার, পৃঃ ২৩৩
১৩. প্রকৃতি পরিবেশ ও মানুষ, ড. নিশীথ কুমার পাল, অনন্যা, ঢাকা, ২০০৫, পৃঃ ১৮৮
১৪. সুখাসনে সুখাহার, পৃঃ ২৩৩-২৩৪
১৫. খাদ্যের নববিধান, কুলরঞ্জন মুখোপাধ্যায়,
সাদার্ন অফসেট প্রিন্টার্স, কোলকাতা, পরিবর্ধিত ষষ্ঠ সংস্করণ, পৃঃ ২৩৪-২৩৭
১৬. সুখাসনে সুখাহার, পৃঃ ২৩৪-২৩৭
১৭. রোগারোগ্যে অব্যর্থ প্রাকৃতিক বিধান, পৃঃ ৯৪
১৮. খাদ্যের নববিধান, পৃঃ ১৩৮
১৯. রোগারোগ্যে অব্যর্থ প্রাকৃতিক বিধান, পৃঃ ৯৫
২০. খাদ্যের নববিধান, পৃঃ ১৩৭
২১. রোগারোগ্যে অব্যর্থ প্রাকৃতিক বিধান, পৃঃ ৯৬-১০০
২২. বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথ ডাঃ স্বপন গাঙ্গুলী কর্তৃক সংগৃহীত
২৩. আপনার স্বাস্থ্য আপনারই হাতে, দেবেন্দ্র ভোরা, নবনীত পাবলিকেশনস
(ইন্ডিয়া) লিমিটেড, ১৯৯৯, পৃঃ ১২৭-১২৮
২৪. রোগারোগ্যে অব্যর্থ প্রাকৃতিক বিধান, পৃঃ ১০০-১০২
২৫. খাদ্যের নববিধান, পৃঃ ১৩৮
২৬. স্বাস্থ্যের পরমোৎকর্ষ, এডিসন সোমরাজ. ওরিয়েন্টাল
ওয়াচম্যান পাবলিশিং হাউজ, পূণে, মহারাষ্ট্র, ভারত, ২০০৬, পৃঃ ৯৯-১০০
২৭. মনোজগত, ১০ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০০৭, পৃঃ ২৫
২৮. স্বাভাবিক খাবারে সুস্থ শরীর, পৃঃ ৬২
২৯. রোগারোগ্যে অব্যর্থ প্রাকৃতিক বিধান, পৃঃ ১০২
৩০. মনুসংহিতা,
ড: মানবেন্দু বন্দোপাধ্যায় শাস্ত্রী, সংস্কৃত পুস্তক ভাণ্ডার, কলকাতা, পৃঃ ৩৭৬,৮৪৭,৮৪৯
৩১. গো-জীবন, শ্রী প্রভাসচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়, নিউ ভারতী প্রেস, কলকাতা, ষষ্ঠদশ মুদ্রণ, বঙ্গাব্দ ১৩৮৪, পৃঃ ১৭৩
৩২. সরল যোগ-সাধন,
শ্রী শ্রী পূর্ণানন্দ ব্রহ্মোচারী, মহেশ লাইব্রেরী প্রকাশন
সংস্থা, তৃতীয় মুদ্রণ, ২০০০,পৃঃ ১২০-১২১
৩৩. সদ্ধর্ম নীতি মঞ্জরী, ড. জিনবোধি ভিক্ষু, বুডিস্ট রিসার্চ এণ্ড
পাবলিকেশন সেন্টার -বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম, ২০০৪, পৃঃ ১৬৯
৩৪. বিশিষ্ট লেখক শ্রী অমলেন্দু বড়ুয়া, বিজ্ঞাপন ইনচার্জ, দৈনিক ডেসটিনি, চট্টগ্রাম।
৩৫. পরমহংস পূর্ণানন্দ স্বামীর উপদেশাবলম্বনে অজপা যোগ
সাধন তত্ত্ব কথা দ্বিতীয় খণ্ড, শ্রীসুরেন্দ্রনাথ সেন, প্রথম সংস্করণ, বঙ্গাব্দ ১৩৩৪, পৃঃ ৫৭-৫৯
৩৬. জীবন-জ্যোতিঃ শ্রীমন্মহর্ষি সুতেজানন্দ যতি মহারাজ-এর
জীবনী ও অমিয়বাণী, শ্রীমৎ সুসিদ্ধানন্দ ব্রহ্মচারী, কম্প্যাক্ট লেজার গ্রাফিক্স, কলকাতা, বঙ্গাব্দ ১৪০৮, পৃঃ ৪৩-৪৪
৩৭. মধু বৃন্দাবনে, শঙ্কু মহারাজ, দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৯১, পৃঃ ৮৭
৩৮. গান্ধী - রচনাসম্ভার তৃতীয় খণ্ড, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, গান্ধী শতবার্ষিকী
সমিতি, পশ্চিমবঙ্গ, ১৯৭০, পৃঃ ৮০

No comments:
Post a Comment