প্রসঙ্গ-লবণ
“লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড। মানুষের ইতিহাসে লবণের ব্যবহার খুব কম দিনের নয়। ঠিক কবে কোথায় কীভাবে মানুষের খাদ্যে লবণের ব্যবহার শুরু হয়, স্পষ্ট করে জানা যায় না। তবে মোটামুটি জানা গেছে,
আজ থেকে অন্তত ৫,০০০ বছর আগে মানুষ তার খাদ্যে লবণ ব্যবহার করেছে। তখন লবণ মানুষের খাদ্যে একটা অতি প্রয়োজনীয় উপাদান ছিল। সমাজে লবণের মর্যাদা ছিল অনেক উঁচুতে।
সংস্কৃতে ও তদ্ভব শব্দে লবণের ব্যুৎপত্তি এক নয়। এ থেকে মনে হয়, ইন্দো-ইউরেশীয়রা তাদের প্রথম দেশত্যাগের সময় লবণের ব্যবহার জানত
না। যা-ই হোক, মানুষের প্রথম সভ্যতায় লবণ যে লভ্য ছিল তা মনে করার কারণ আছে। হোমার লবণকে ‘divine’
বলেছেন।
উচ্চবর্গের প্রাণী আর মানুষের ক্রমবিকাশে লবণের একটা বড়ো ভূমিকা ছিল। প্রাণের সূচনা সমুদ্রের লবণ সমৃদ্ধ পরিবেশে। আদিম কোষের ভিতরকার তরলে পট্যাশিয়াম ছিল অনেক বেশি, সোডিয়াম অনেক কম। সমুদ্রের সোডিয়াম সমৃদ্ধ পরিবেশ থেকে কোষের তরলকে পৃথক করে রেখেছিল কোষপ্রাচীর। ঝিল্লীময় কোষপ্রাচীরের একদিক থেকে আর একদিকে আয়নের বিচলন প্রাণের
একটা মৌলিক প্রক্রিয়া এবং কোষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির একটা অপরিহার্য অংশ, বিশেষ করে নার্ভাস সিস্টেম অর্থাৎ স্নায়ুতন্ত্রের কোষের
মধ্যে।

